মো: রমিজ আলী,সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাটের সংকট নিরসনে উদ্যোগ, পরিদর্শনে বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যান
জেটি ও সংযোগ সড়কের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস, নিরাপদ ফেরি সার্ভিস চালুর প্রতিশ্রুতি
সন্দ্বীপের সঙ্গে চট্টগ্রামের নৌপথে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলের নানা প্রতিবন্ধকতা সরেজমিনে দেখতে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট পরিদর্শন করেছেন বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এটিএম আব্দুল বারী ড্যানী। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে তিনি ঘাটে পৌঁছে ফেরি চলাচল, জেটির অবস্থা, যাত্রীসেবা এবং যানবাহন পারাপারের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে ঘাট সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন। এ সময় সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাস্টার আবুল কাসেম, কুমিরা ঘাটের ইজারাদার জগলুল হোসাইন নয়নসহ বিআইডব্লিউটিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ঘাট সংশ্লিষ্টরা চেয়ারম্যানকে জানান, ফেরি জেটিতে সঠিকভাবে অবস্থান করতে না পারায় ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন ফেরিতে ওঠানামার সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। অন্যদিকে জোয়ারের পানির তোড়ে জেটির সংযোগ সড়কের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত ও বিলীন হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা।
তাদের অভিযোগ, বর্ষা ও জোয়ারের সময় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে নিরাপদ সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং যাত্রী পরিবহনের উপযোগী ফেরি সার্ভিস নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। ঘাটের এসব সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে শুনে বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, সন্দ্বীপের মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ফেরি সার্ভিসকে আরও কার্যকর ও যাত্রীবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। চেয়ারম্যান জানান, কুমিরা ঘাট থেকে বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত বেড়িবাঁধ সড়ক নির্মাণের টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ে তা শেষ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে যাত্রীদের যাতে দুর্ভোগে পড়তে না হয় এবং নিরাপদে সন্দ্বীপ যাতায়াত করতে পারেন, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। পরিদর্শন শেষে ঘাটের অবকাঠামো উন্নয়ন, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং যানবাহন পারাপারে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেন বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যান।
ঘাট সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ নৌযোগাযোগ আরও নিরাপদ, সহজ ও কার্যকর হবে।