
ব্রেস্ট বা স্তনের ভেতরে যখন অস্বাভাবিকভাবে কোষ বৃদ্ধি পেয়ে একটি গাঁট বা পিণ্ড তৈরি করে, তখন তাকে ব্রেস্ট টিউমার বলা হয়।
সব টিউমার ক্যান্সার নয়। ব্রেস্ট টিউমার দুই ধরনের হতে পারে—
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট কারণ জানা যায় না। তবে কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কারণ রয়েছে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রেস্ট টিউমার ও ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
মা, বোন বা নিকট আত্মীয়ের স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বেশি।
বিশেষ করে BRCA1 এবং BRCA2 জিনের পরিবর্তন থাকলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।
নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে—
✅ স্তনে নতুন গাঁট অনুভব হওয়া
✅ স্তনের আকার বা আকৃতির পরিবর্তন
✅ স্তনের ত্বক কুঁচকে যাওয়া বা কমলার খোসার মতো হওয়া
✅ নিপল ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া
✅ নিপল থেকে রক্ত বা অস্বাভাবিক তরল বের হওয়া
✅ বগলের নিচে গাঁট হওয়া
✅ স্তনে দীর্ঘদিন ব্যথা বা অস্বস্তি
অনেকেই গাঁট অনুভব করেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। মনে রাখতে হবে—
সব গাঁট ক্যান্সার নয়।
তাই প্রথমেই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী নিম্নোক্ত পরীক্ষা দিতে পারেন—
বিশেষ করে কম বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে।
স্তনের বিস্তারিত পরীক্ষা এবং ক্যান্সার শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ।
সূক্ষ্ম সূঁচের মাধ্যমে কোষ সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়।
টিউমার ক্যান্সার কি না তা নিশ্চিত করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা।
চিকিৎসা নির্ভর করে টিউমারের ধরন, আকার এবং রিপোর্টের ওপর।
রোগের স্টেজ অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়—
বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে স্তন ক্যান্সার সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব।
✔ নিয়মিত ব্যায়াম
✔ স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
✔ ওজন নিয়ন্ত্রণ
✔ ধূমপান পরিহার
✔ সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানো
✔ ৪০ বছর বয়সের পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ম্যামোগ্রাফি
✔ প্রতি মাসে নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা (Breast Self-Examination)
স্তনে কোনো গাঁট বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখলে ভয় পাবেন না, অবহেলাও করবেন না। দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফল চিকিৎসা সম্ভব।
সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এবং দ্রুত চিকিৎসাই ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

আলোচনায়:
ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস লিমু
এমবিবিএস, (আর), সিসিডি (বারডেম), এমআরসিওজি (এফপি), গাইনোকোলজি, লন্ডন, ডিএমইউ (সনোলজি)
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ, কুমিল্লা
গাইনি, প্রসূতি ও মহিলা রোগের চিকিৎসক ও সার্জন
বন্ধ্যাত্ব রোগের উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত
স্তনের যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিন—প্রাথমিক শনাক্তকরণই জীবন বাঁচাতে পারে।