দিল্লির হোটেল অগ্নিকাণ্ডে এক পরিবারের ৮ সদস্যের মৃত্যু এবং পরবর্তীতে পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য প্রবীণ রাধে শ্যাম আগারওয়ালের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো পরিবার কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আগারওয়াল পরিবারে ৯ জনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকাজুড়ে। মঙ্গলবার (৯ জুন) এনডিটিভির খবরে বলা হয়, সম্প্রতি দিল্লির মালব্য নগরের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আগারওয়াল পরিবারের ৮ সদস্য নিহত হন। পরিবারের একমাত্র বেঁচে থাকা সদস্য ৮০ বছর বয়সী রাধে শ্যাম আগারওয়াল মঙ্গলবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় তিনি তার পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতি নিয়ে বারবার জানতে চাইছিলেন, অথচ তিনি জানতেন না যে হাসপাতাল থেকে মাত্র কয়েকশ মিটার দূরেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তার পরিবারের সবাই প্রাণ হারিয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাধে শ্যাম আগারওয়ালকে গুরুগ্রাম থেকে এনে দিল্লির সাকেত এলাকার ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়। তিনি শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন। তার দেখাশোনার সুবিধার জন্যই পরিবারটি নিকটবর্তী একটি বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট হোটেল ‘ফ্লারিশ ইন’-এ অবস্থান করছিল। হাসপাতাল ও থাকার জায়গার দূরত্ব এবং যানজট বিবেচনা করেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা ছিলেন- ছেলে ভিভেক আগারওয়াল, তার মা প্রেম লতা আগারওয়াল, স্ত্রী তারজানি আগারওয়াল, দুই মেয়ে জিভিশা ও ভার্যা এবং আরও তিনজন আত্মীয়। তারা সবাই হাসপাতালে ভর্তি পরিবারের কর্তার পাশে থাকার জন্য ছিলেন হোটেলটিতে। ঘটনার দিন পরিবারকে জানানো হয়েছিল যে, প্রবীণ আগারওয়ালের অবস্থা গুরুতর এবং যে কোনো সময় খারাপ পরিস্থিতির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল তাদের।
তাদের আত্মীয়দের মতে, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যদের হাসপাতালে গিয়ে দেখা করার কথা ছিল, কারণ সাধারণত ওই সময় থেকেই রোগীদের দর্শনার্থীদের অনুমতি দেয়া হয়। এদিকে ভিভেক আগারওয়ালের বড় মেয়ে জিভিশা বেঙ্গালুরুর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। দাদার শেষ মুহূর্তে পাশে থাকতে দিল্লিতে এসেছিলেন তিনি। আত্মীয়রা জানান, নাতনির আগমনে দাদু অত্যন্ত খুশি হয়েছিলেন এবং নার্সদের গর্ব করে বলেছিলেন যে, তার নাতনি দূরের শহর থেকে তাকে দেখতে এসেছে। কিন্তু সেই সাক্ষাৎ শেষ পর্যন্ত শেষ বিদায় হয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডে ৮ সদস্যের মৃত্যুর পর পরিবারের কর্তার মৃত্যুর ফলে গুরুগ্রামের সেক্টর ৪৬-এর বাড়িটি এখন পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে গেছে। বাড়িটিতে আর কোনো জীবিত সদস্য নেই, ফলে এক সময় হাসি-আনন্দে ভরা পরিবারটি এখন পরিণত হয়েছে সম্পূর্ণ শূন্যতায়। সুত্র- (Voice Bangla)