সাভারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে জিম্মি করে ২ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ, আটক ৩
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে ঢাকার সাভারের রেডিও কলোনি এলাকার একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে এক ব্যক্তিকে জিম্মি, মারধর ও নির্যাতনের পর স্বজনদের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক নারী ও তার স্বামীসহ তিনজনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

তবে এ ঘটনায় স্থানীয় বিতর্কিত বিএনপি নেতা আজিজুল হাকিম ওরফে ‘মুরগি হাকিম’-এর নামও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি জানার পর তিনি কথিত হানিট্র্যাপ চক্রের সদস্যদের কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করেন। চক্রের সদস্যরা ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং পরবর্তীতে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানানোর পাশাপাশি সাভার মডেল থানায় খবর দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে আজিজুল হাকিম ওরফে ‘মুরগি হাকিম’কে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে জুয়া, মাদক কারবার, ফিটিংবাজি ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের যে অভিযোগগুলো রয়েছে, সেগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ও ব্যক্তিগত ছবি থাকার যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও সংশ্লিষ্ট সূত্রে যাচাই করা প্রয়োজন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাভার পৌরসভার রেডিও কলোনির ভাটপাড়া এলাকার মানসুরা ভিলার পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর দাবি, গত ২৪ আগস্ট দুপুরে ইমোর মাধ্যমে পূর্বপরিচিত এক নারী তাকে ওই ফ্ল্যাটে দেখা করার জন্য ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছানোর পর অন্ধকার একটি কক্ষে থাকা কয়েকজন যুবক তার ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে শিকল ও রশি দিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে কাঠের রুল ও লোহার শিকল দিয়ে মারধর ও নির্যাতন করা হয়। পরে জোরপূর্বক স্বজনদের ফোন করিয়ে পরিবারের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
এ ছাড়া একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। সারারাত আটকে রাখার পর ২৫ আগস্ট ভোর ৫টার দিকে বিষয়টি কাউকে না জানানোর শর্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী সাভার মডেল থানায় গিয়ে বিস্তারিত জানালে পুলিশ ভাটপাড়া এলাকার ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। এ সময় এক নারী ও তার স্বামীসহ মোট তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার এসআই নুরুল আমিন জানান, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ভুক্তভোগীর অভিযোগের সত্যতা যাচাইসহ সব ধরনের আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।