এক নিরবিচ্ছিন্ন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের অপর নাম রোকসানা সুখী। তিনি একাধারে কবি- সম্পাদক- প্রকাশক- গীতিকার ও সামাজিক কর্মী। কবি রোকসানা সুখী সাহিত্য ধারার মাঝে সমাজকে দিয়ে গেছেন এক অমূল পরিবর্তন অভাবনীয় তৃপ্ততা। সর্বোসাফল্যে ৮০০ কবিতার জন্ম দেন এই গুণী কবি। ওনার একক কাব্যগ্রন্থ কাব্যের জলচাপ, কবিতা তুমি আমার, আশাবাদী চাষা, নরাধম তোমাকেই বলছি ও চেতনায় অগ্নি ছাড়াও ১৬ টি কাব্যগ্রন্থের সম্পাদনা করেন এই গুণী কবি। সাহিত্যের আলো দেশ থেকে ছড়িয়ে পড়েন দেশের বাহিরেও। সাহিত্যকর্মের জন্য দেশের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কতৃক তিনি শতাধিক সম্মাননা প্রাপ্ত হয়েছেন। পেয়েছেন আন্তর্জাতিক মন্ডলের সম্মাননা। সাহিত্য কর্মে কলকাতার আসাম থেকে মায়ারানী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট গোল্ড অ্যাওয়ার্ড, আসামের মাদার তেরেসা গোল্ড অ্যাওয়ার্ড, সিতারা কাব্যরত্ন সম্মান, দু বাংলা সেরা সংগঠক সংগঠন সম্মাননা, কাব্যরত্ন, সাহিত্যরত্ন ও কোলকাতা মহাবঙ্গ চেরিটেবল থেকে অগ্নিকন্যা উপাধি সনদ ও গোল্ড অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।
তিনি সমাজের নারীদের প্রতি অন্যায় অবিচারের প্রতিবাদে ও কুসংস্কারে বিরুদ্ধে এক দুঃসাহসিক প্রতিবাদী নারী। ২০১৭ সালে স্বপ্নকথা সাহিত্য পরিষদ দিয়ে সর্বপ্রথম স্বপ্নকথার পদযাত্রা। তারপর স্বপ্নকথা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয় বিভিন্ন কবিদের ১৫০ কাব্যগ্রন্থ। করোনা মহামারীতে যখন সবাই ঘরবন্দী অনেকের অর্থায়নে খাবারের ব্যাগ ভরে ভরে ছুটে যান মানুষের দরজায় দরজায়, সামাজিক কাজের মাধ্যমে ২০২০ সালে তৈরি হয় স্বপ্নকথা ফাউন্ডেশন। আর্থিক অস্বচ্ছতার কারণে পূর্ণ সামাজিক কাজের তৎপরতাই থেকেও স্বপ্নকথা ফাউন্ডেশনের সরকারি রেজিস্ট্রেশন সহ স্বপ্নকথার পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে ব্যর্থ হন আজকের অগ্নিকন্যা রোকসানা সুখী। উনি থেমে থাকেনি তারপর ২০২৪ সালে সেই স্বপ্নকথা ফাউন্ডেশন কে পূর্ণরূপ দেন স্বপ্নকথা মহিলা উন্নয়ন সংস্থায়।
অগ্নিকন্যা সামাজিক কাজে নারীদের জন্য রেখে গেছেন বহুমুখী ভূমিকা। কখনও রাত ৯টায় রাস্তা থেকে তুলে এনে অসহায় নারীর পঁচে যাওয়া পায়ে তিনি করান দু-দুটি মেজর অপারেশন, কখনও রাত ১২টায় রক্তাক্ত নারীকে নিয়ে ছুটে গেছেন হসপিটালের দরজায়, আবার কখনও রাত বিরাতে হসপিটালে হসপিটালে ছুটে বেড়িয়েছেন ১৮ বছরে কিশোরী…. রক্তের ব্যাগ হাতে। নারীদের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং কর্মঠ করতে স্বপ্নকথা মাধ্যমে এই পর্যন্ত দেয়া হয় ১৪ টি সেলাই মেশিন, বিধবা নারী ও অসহায় পরিবারগুলোকে দেওয়া হয় বেশ কিছু বাথরুম এবং কিছু পানির কল। শীতে কম্বল বিতরণ, ঈদে ঈদ সামগ্রী বিতরণ, প্রতিবন্ধীদের মাঝে খাদ্য বিতরণ, রমজানে ইফতার সামগ্রী বিতরণ, এতিম মেয়েদের বিয়েতে প্রণোদনা সহ, প্রায় সত্তর বার মেডিসিন সেবায় ও চিকিৎসা সেবা সহ দূর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন স্বপ্নকথা নামক এই অগ্নিকন্যা রোকসানা সুখী। আর্থিক প্রণোদনার মাধ্যমে বেকার নারীদের হাঁস মুরগি পালন, ছাগল পালন, কাপড়ের বিজনেস সহ নানা কাজে স্বাবলম্বী করে নারীদের করে তুলেছেন উদ্যোক্তা।
আজকের এই জার্নি রোকসানা সুখীর একার কৃতিত্ব নয়। এই কাজে স্বপ্নকথার সভাপতি সাথী ইসলাম সাজু সহ বহু মহামানব তাদের আর্থিক সহযোগিতায়, রক্তদানে, মানবিক সেবায়, চিকিৎসা সেবায় রেখে গেছেন নিরলস ভূমিকা। সকলের হাত ধরে, সকলের ভালোবাসায় ও আর্থিক সহযোগিতায় স্বপ্নকথা এগিয়ে যাবে আরো বহুগুণ।