শিরোনাম :
ajkersottoprokash24
৮ অক্টোবর ২০২৬, ১:১৩ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

নাঙ্গলকোটের রাজনীতির কিংবদন্তি ‘জনতার মজুমদার’ তিন দশক পরও স্মৃতিতে অমলিন

আলহাজ্ব ওমর আহমেদ মজুমদার

ইলিয়াছ হোসাইন রিপোর্টার, কুমিল্লা.

 



কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের রাজনৈতিক ইতিহাস, প্রশাসনিক বিকাশ ও শিক্ষা বিস্তারের প্রসঙ্গ উঠলে যে নামটি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে, তিনি আলহাজ্ব ওমর আহমেদ মজুমদার। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য থেকে দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন, পরবর্তী সময়ে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন এ জনপদের রাজনীতির এক পরিচিত মুখ। স্থানীয় মানুষের কাছে তাঁর পরিচিতি ছিল ‘জনতার মজুমদার’ নামে। সময়ের পরিবর্তনে নাঙ্গলকোটের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা অনেক দূর এগিয়েছে। বদলেছে জনপদের অবকাঠামো, শিক্ষা ও যোগাযোগব্যবস্থা। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের স্মৃতিতে আলহাজ্ব ওমর আহমেদ মজুমদারের নাম আজও আলোচিত। ১৯৯৬ সালের ৯ অক্টোবর তাঁর জীবনাবসান ঘটে। তাঁর মৃত্যুর তিন দশক পূর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে ফিরে দেখা যায়, কীভাবে একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধির রাজনৈতিক জীবন একটি জনপদের ইতিহাসের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল।

 

বাংগড্ডার সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম-

১৯৩০ সালের ৮ মার্চ তৎকালীন লাকসাম থানার অন্তর্গত নাঙ্গলকোটের বাংগড্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আলহাজ্ব ওমর আহমেদ মজুমদার। তাঁর পিতা বাদশা মিয়া মজুমদার এবং মাতা সাহারা বানু মজুমদার। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, তাঁর পিতা ছিলেন বিপুল সম্পত্তির অধিকারী একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। পারিবারিক পরিচয়ের পাশাপাশি স্থানীয় সমাজে তাঁর অবস্থান ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি কুমিল্লা পৌরসভার প্রথম মুসলিম চেয়ারম্যান মরহুম আব্দুল জব্বার ওরফে হাজী তারু মিয়ার মেয়ের জামাতা এবং কুমিল্লা সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনসার আহমেদের ভগ্নিপতি ছিলেন। তবে পারিবারিক পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করাই ছিল তাঁর দীর্ঘ পথচলার অন্যতম দিক।

 

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেতৃত্বের শীর্ষে-

আলহাজ্ব ওমর আহমেদ মজুমদারের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা স্থানীয় সরকারব্যবস্থার মধ্য দিয়ে। প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে প্রায় ২৫ বছর বাঙ্গড্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে স্থানীয় নেতৃত্বে দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান তৈরি করেন। তাঁর কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা ১৯৬৮ সালে তৎকালীন চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে স্বর্ণপদক লাভ। এ স্বীকৃতি তাঁর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিত্বের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়। দীর্ঘ সময় ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালন করার মধ্য দিয়ে তিনি স্থানীয় মানুষের সমস্যা, প্রত্যাশা ও উন্নয়নসংক্রান্ত নানা বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এবং এলাকার বিভিন্ন বিষয়ে সম্পৃক্ততা তাঁকে স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।

 

তিনবার সংসদ সদস্য: জাতীয় রাজনীতিতে উত্থান-

স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পর জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন আলহাজ্ব ওমর আহমেদ মজুমদার। ১৯৭৯ সালের উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এভাবে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে নাঙ্গলকোট অঞ্চলের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি আলোচিত অধ্যায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা। জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক সময়কালে তিনি তাঁর সঙ্গে কাজ করেন। সংসদ সদস্য থাকাকালে জিয়াউর রহমানের নাঙ্গলকোট সফর ও জনসমাবেশে অংশগ্রহণ স্থানীয় রাজনৈতিক ইতিহাসের স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। স্থানীয় নেতৃত্ব থেকে জাতীয় সংসদে পৌঁছানোর এই পথচলা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ব্যাপ্তি ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পরিচয় বহন করে।

 

নাঙ্গলকোটের প্রশাসনিক পরিচয় প্রতিষ্ঠার অধ্যায়-

নাঙ্গলকোটের প্রশাসনিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা পৃথক থানা ও উপজেলা হিসেবে এর বিকাশ। একসময় নাঙ্গলকোট পৃথক প্রশাসনিক একক ছিল না; এলাকাটি তৎকালীন লাকসাম ও চৌদ্দগ্রাম থানার বিভিন্ন ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, তৎকালীন লাকসাম থানার পাঁচটি ইউনিয়ন এবং চৌদ্দগ্রাম থানার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে নাঙ্গলকোটকে পৃথক প্রশাসনিক কাঠামোয় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ প্রক্রিয়ায় আলহাজ্ব ওমর আহমেদ মজুমদারের ভূমিকা স্থানীয় মানুষের স্মৃতিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রশাসনিক সেবা মানুষের কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়া, স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা এবং জনসাধারণের যোগাযোগ সহজ করার ক্ষেত্রে উপজেলা প্রতিষ্ঠা ছিল এ অঞ্চলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। নাঙ্গলকোটের প্রশাসনিক বিকাশের এই অধ্যায় আলোচনায় এলে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা ও স্থানীয় নেতৃত্বের প্রসঙ্গও সামনে আসে। তবে এ বিষয়ে তাঁর নির্দিষ্ট অবদান ও সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাই করা গেলে ইতিহাসের এ অধ্যায় আরও তথ্যসমৃদ্ধভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

 

শিক্ষা বিস্তারে উদ্যোগ: বাদশা মিয়া মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয়-

রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তারেও আলহাজ্ব ওমর আহমেদ মজুমদারের উদ্যোগ ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯৬৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাদশা মিয়া মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয়। পরবর্তীকালে প্রতিষ্ঠানটি কলেজে রূপ নেয় বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। গ্রামীণ জনপদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা শুধু একটি ভবন নির্মাণের বিষয় নয়; এটি নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষার সুযোগ তৈরি এবং সমাজের দীর্ঘমেয়াদি বিকাশে ভূমিকা রাখার একটি উদ্যোগ। তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বাংগড্ডা ও আশপাশের এলাকার শিক্ষাবিস্তারের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত। এ ছাড়া নাঙ্গলকোট ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও তিনি সহযোগিতা করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। তাঁর এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে এলাকার শিক্ষাব্যবস্থার প্রসারে তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করা হয়।

 

বাদশা মিয়া অটো রাইস মিল ও স্থানীয় অর্থনীতি-

আলহাজ্ব ওমর আহমেদ মজুমদারের কর্মকাণ্ড শুধু রাজনীতি ও শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বাদশা মিয়া অটো রাইস মিল তৎকালীন সময়ে স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিল।

কৃষিনির্ভর অঞ্চলে ধান প্রক্রিয়াজাতকরণ ও চাল উৎপাদনের মতো উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত এ মিলকে ঘিরে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রসঙ্গ স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়। স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে তাঁর চিন্তা ও উদ্যোগের স্মৃতিতে এ প্রতিষ্ঠানটির নামও উল্লেখ করা হয়। একজন জনপ্রতিনিধির রাজনৈতিক সাফল্য শুধু নির্বাচনে জয়লাভের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখাও জনজীবনে তাঁর পরিচয় গড়ে তোলে। স্থানীয় মানুষের স্মৃতিতে আলহাজ্ব ওমর আহমেদ মজুমদার ছিলেন এমন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যাঁর সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ ছিল নিবিড়। মানুষের বিপদে সহযোগিতা, সামাজিক বিরোধ মীমাংসা, শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ততার নানা স্মৃতি আজও স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়।

‘জনতার মজুমদার’ নামটি তাঁর সেই জনসম্পৃক্ততারই প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত। দীর্ঘ সময় স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সংসদে দায়িত্ব পালন করার ফলে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল। তাঁর নামেই ‘ওমরগঞ্জ বাজার’—স্থানীয় স্মৃতির এক পরিচয় আলহাজ্ব ওমর আহমেদ মজুমদারের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ওমরগঞ্জ বাজারের পরিচিতিও। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে, তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর নামের স্মারক হিসেবে ‘ওমরগঞ্জ বাজার’ প্রতিষ্ঠিত হয়। সময়ের সঙ্গে বাজারটি বিস্তৃত হয়েছে এবং নাঙ্গলকোটের পরিচিত বাজারগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। একটি জনপদের বাজার শুধু কেনাবেচার স্থান নয়; এটি স্থানীয় মানুষের যোগাযোগ, ব্যবসা–বাণিজ্য ও সামাজিক জীবনেরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সেই বিবেচনায় ওমরগঞ্জ বাজারের নামের সঙ্গে তাঁর স্মৃতি জড়িয়ে থাকার বিষয়টি স্থানীয় ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। তবে বাজারটির প্রতিষ্ঠাকাল ও নামকরণের সুনির্দিষ্ট ইতিহাস নিশ্চিত করতে স্থানীয় দলিল, বাজার কমিটির নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

সময় বদলেছে, বদলেছে নাঙ্গলকোটও-

১৯৩০ সালে বাংগড্ডা গ্রামে জন্ম নেওয়া আলহাজ্ব ওমর আহমেদ মজুমদার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হিসেবে যাত্রা শুরু করে দীর্ঘদিন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। শিক্ষা বিস্তার, স্থানীয় নেতৃত্ব এবং প্রশাসনিক বিকাশের আলোচনায়ও তাঁর নাম উঠে আসে। ১৯৯৬ সালের ৯ অক্টোবর তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে। কিন্তু তাঁর সময়ের নাঙ্গলকোট এবং বর্তমান নাঙ্গলকোটের মধ্যে যে পরিবর্তনের ইতিহাস, তার একটি অংশের সঙ্গে তাঁর নাম ও কর্মকাণ্ড যুক্ত হয়ে আছে। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি ঘটনা, প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইতিহাস, প্রশাসনিক বিকাশে ভূমিকা এবং স্থানীয় মানুষের স্মৃতিচারণ সংরক্ষণ করা গেলে নাঙ্গলকোটের ইতিহাস আরও সমৃদ্ধ হবে। বিশেষ করে প্রবীণদের সাক্ষাৎকার, পুরোনো সংবাদপত্র, নির্বাচনী নথি ও সরকারি দলিলের সমন্বয়ে তাঁর জীবন ও কর্মের একটি পূর্ণাঙ্গ ঐতিহাসিক দলিল তৈরি করা সম্ভব।

 

একজন মানুষ, একটি সময়, একটি জনপদের স্মৃতি-

রাজনৈতিক পদ ও ক্ষমতার মেয়াদ একসময় শেষ হয়। কিন্তু কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ড যদি মানুষের জীবন, শিক্ষা, স্থানীয় নেতৃত্ব ও জনপদের বিকাশের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে তাঁর স্মৃতি দীর্ঘ সময় ধরে আলোচিত হতে পারে। আলহাজ্ব ওমর আহমেদ মজুমদারের জীবন নাঙ্গলকোটের রাজনৈতিক ইতিহাসের এমনই একটি অধ্যায়। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে তিনবারের সংসদ সদস্য হয়ে ওঠা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক—সব মিলিয়ে তিনি স্থানীয় ইতিহাসে একটি পরিচিত নাম। মৃত্যুর তিন দশক পরও ‘জনতার মজুমদার’ নামটি স্থানীয় স্মৃতিতে উচ্চারিত হয়। তাঁর জীবন ও কর্মের প্রামাণ্য ইতিহাস সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারে নাঙ্গলকোটের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিকাশের পেছনে কাজ করা মানুষগুলোর কথা। আলহাজ্ব ওমর আহমেদ মজুমদার—শুধু একজন সাবেক সংসদ সদস্য নন; তিনি নাঙ্গলকোটের ইতিহাস, জনসেবা ও স্থানীয় নেতৃত্বের স্মৃতিতে জড়িয়ে থাকা এক পরিচিত নাম।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

লাকসামে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি: থানায় জিডি

১

লাকসামে অবৈধ ড্রেজার পরিচালনার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

২

লাকসামে অসহায় মেয়ের বিয়েতে সহযোগিতার হাত বাড়ালেন প্রবাসী ঐক্য ফাউন্ডেশন

৩

দুর্দিনের ত্যাগী ও একাধিকবার কারা নির্যাতিত সাভার থানা বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, তৃণমূল নেতাকর্মীদের তীব্র ক্ষোভ।

৪

লাকসামে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব মজির আহমেদ

৫

লাকসামে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি শামীম আটক

৬

এমপি আবুল কালামের নির্দেশে অবৈধ দখলদার মুক্ত হচ্ছে নবাব ফয়জুন্নেছা জাদুঘর

৭

জনতার ভালোবাসা নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চান আব্দুল বারেক মিয়াজী

৮

সাভারে দুর্গাপূজা উপলক্ষে দুই শতাধিক পরিবারের মাঝে শারদীয় উপহার বিতরণ

৯

লাকসাম প্রেস ক্লাব এর উদ্যোগে দিনব্যাপী সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

১০

সাভার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীদের সুরক্ষায় বিএনপি নেতা খোরশেদ আলমের মশারি বিতরণ

১১

এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে পালন করতে পারবেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

১২

নাঙ্গলকোটের রাজনীতির কিংবদন্তি ‘জনতার মজুমদার’ তিন দশক পরও স্মৃতিতে অমলিন

১৩

সাভারে ব্যবসায়ীর পুরো পেঁপে বাগান কেটে ফেলার অভিযোগ কৃষক লীগ নেতার বিরুদ্ধে।

১৪

সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক মৌলভীবাজারের লতিফা নিলুফার পাপড়ি

১৫

ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

১৬

লাকসাম কালচারাল সেন্টারের বর্ষপূর্তি উদযাপন

১৭

গাজীপুরের চক্রবর্তী এলাকায় ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

১৮

১০ম সিতোরিউ কারাতে-দো বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপে লাকসাম উপজেলা কারাতে একাডেমির ২৩ পদক জয়

১৯

নাফ নদীতে কোস্ট গার্ডের অভিযান, ১৪ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ

২০