দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ফলাফলে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। রংপুর বিভাগের আট জেলার ৬৬৮টি কলেজ থেকে মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেছিলেন, যাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৫১ হাজার ৩৯৮ জন। পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ, আর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯৫৩ জন। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটাই বোর্ডের সবচেয়ে কম পাসের হার ও জিপিএ-৫-এর সংখ্যা।
শনিবার সকালে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বোর্ডের সচিব অধ্যাপক নূর আবদুর রাজ্জাক এই ফলাফল জানান। গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানে ধারাবাহিক পতনের ছবি স্পষ্ট: ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৪৩ শতাংশ, ২০২২ সালে ৭৯ দশমিক ০৮, ২০২৩ সালে ৭৪ দশমিক ৪৮, ২০২৪ সালে ৭৭ দশমিক ৫৬ এবং ২০২৫ সালে ৫৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ। জিপিএ-৫-এর সংখ্যাও একইভাবে কমেছে—২০২১ সালের ১৫ হাজার ৩৪৯ থেকে এবার ২ হাজার ৯৫৩-এ নেমে এসেছে।
বিভাগভিত্তিক ফলে মানবিক বিভাগ এগিয়ে আছে: সেখানে পাসের হার ৬৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৩৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এবারও ভালো করেছে—মেয়েদের পাসের হার ৫০ দশমিক ২৬ শতাংশ, ছেলেদের ৪১ দশমিক ৩১ শতাংশ। জেলাভিত্তিক হিসাবে রংপুর জেলা ৫৬ দশমিক ১২ শতাংশ নিয়ে শীর্ষে, আর সবচেয়ে কম পঞ্চগড়ে, ৩৬ দশমিক ২৩ শতাংশ।
সবচেয়ে উদ্বেগের দিকটি হলো, ৪৯টি কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি। গত বছর এমন কলেজের সংখ্যা ছিল ৪৩টি, আর ২০২১ সালে ছিল মাত্র ২টি। বোর্ড সচিব জানিয়েছেন, এবার শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে না; সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষদের ডেকে ফল খারাপ হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হবে এবং প্রয়োজনে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন বাতিলের সুপারিশ করা হবে।
সূত্র: প্রথম আলো
মন্তব্য করুন