বর্ষার উত্তাল রূপে নতুন সৌন্দর্যে সেজেছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। বৈরী আবহাওয়া ও ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি থাকলেও শুক্রবার (১৭ জুলাই) সাপ্তাহিক ছুটিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো সৈকত এলাকা। সকাল থেকেই জিরো পয়েন্ট, পূর্ব ও পশ্চিম সৈকতে দেখা যায় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, দমকা হাওয়া এবং উত্তাল ঢেউ উপেক্ষা করে অনেকেই সমুদ্রে নেমে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন। কেউ ছবি তুলেছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করেছেন, আবার অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে উপভোগ করেছেন বর্ষার ব্যতিক্রমী সমুদ্রের সৌন্দর্য। ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক মাহাদী সাবিব বলেন, “এত বড় ঢেউ আগে কখনও দেখিনি। প্রকৃতির এমন রূপ সত্যিই অসাধারণ। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা দরকার।
মাদারীপুর থেকে আসা শিক্ষার্থীরা বলেন, “বর্ষায় কুয়াকাটার সৌন্দর্য অন্যরকম। কিন্তু উত্তাল সমুদ্রের কারণে লাইফগার্ড ও নিরাপত্তা কর্মীদের আরও দৃশ্যমান উপস্থিতি থাকা উচিত পর্যটকদের অভিযোগ, সৈকতের বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড, প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড, উদ্ধার সরঞ্জাম এবং নিরাপত্তা কর্মীদের দৃশ্যমান উপস্থিতি এখনো পর্যাপ্ত নয়। তাদের মতে, পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা জরুরি। কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম বাচ্চু বলেন, “উত্তাল সমুদ্র দেখতে প্রতিদিনই অসংখ্য পর্যটক আসছেন। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে সৈকতে পর্যাপ্ত লাইফগার্ড, সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতি এবং টুরিস্ট পুলিশের নিয়মিত টহল নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এদিকে কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক নাজমুল হাসান জানান, নিম্নচাপের কারণে সমুদ্র উত্তাল থাকায় মাইকিং করে পর্যটকদের গভীর পানিতে না যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সৈকতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন সময়ের দাবি। পর্যাপ্ত লাইফগার্ড, সতর্কীকরণ পতাকা, উদ্ধার সরঞ্জাম, জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে কুয়াকাটা নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে আরও সমৃদ্ধ হবে।
মন্তব্য করুন