ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এআই ছবি ছড়িয়ে সাভারে বিএনপি নেতা আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অভিযোগ
সাভার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও সাবেক স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া ছবি তৈরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে আব্দুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক পরিবেশে দেখা যায়। ছবিটি প্রকাশের পর এর সত্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, ছবিটি প্রকৃত নয়; বরং ডিজিটাল প্রযুক্তি ও এআই ব্যবহার করে সম্পাদনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মূল ছবিটি ছিল বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির একটি আসল ছবি। অভিযোগ রয়েছে, সেই ছবিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের মুখমণ্ডলের স্থানে কৃত্রিমভাবে আব্দুর রহমানের মুখ সংযোজন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
দুটি ছবির তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সম্পাদিত ছবিতে মুখমণ্ডলের গঠন, আলো-ছায়া এবং শরীরের সঙ্গে মুখের সামঞ্জস্যে অসঙ্গতি রয়েছে। এছাড়া ছবির পেছনে থাকা “বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ” লেখা ও সংশ্লিষ্ট লোগোও বিকৃত দেখা যায়, যা ছবিটির সত্যতা নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শুরুতে আব্দুর রহমান ছবিটি তার স্পিকার থাকাকালে তোলা বলে দাবি করেন। তবে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের মুখে তিনি পরে ছবিটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, আব্দুর রহমানের পরিবার ও ঘনিষ্ঠ স্বজনদের ঘিরেও অতীতে বিভিন্ন বিতর্কের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, তার শ্বশুর মনসুর একজন দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী, যিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এছাড়া তার এক ভাগিনা অতীতে সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, তার আরেক স্বজনের বিরুদ্ধে সাভারের একটি মার্কেট দখল ও সেখানে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাভার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পূর্ববর্তী সময়ে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে আব্দুর রহমানকে সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা সাংবিধানিক পদধারীর ছবি এআই বা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকৃত করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া প্রমাণিত হলে তা প্রচলিত সাইবার-সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।
এ ঘটনায় এখনো সংশ্লিষ্ট কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
মন্তব্য করুন