
লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।
এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলাফলে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় এবার তিন ধারায় মোট ৩ হাজার ৪৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২ হাজার ৫৯৪ জন। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫—উভয় ক্ষেত্রেই শীর্ষস্থান অর্জন করে সেরা প্রতিষ্ঠানের গৌরব পেয়েছে নবাব ফয়েজুন্নেছা ও বদরুন্নেসা যুক্ত উচ্চ বিদ্যালয়।
লাকসামে এসএসসিতে পাসের হার ৭৪.৮০ শতাংশ, উপজেলায় এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ২৫টি বিদ্যালয় থেকে মোট ২ হাজার ২১৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৬৫৭ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৫৫৮ জন। এসএসসি ফলাফলে উপজেলায় সর্বোচ্চ ৯৬.২০ শতাংশ পাসের হার অর্জন করেছে নবাব ফয়েজুন্নেছা ও বদরুন্নেসা যুক্ত উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে সর্বোচ্চ ৪৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ বছর লাকসাম উপজেলায় এসএসসিতে মোট ১৭৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
দাখিলে পাসের হার ৭৪.৩০ শতাংশ, লাকসাম উপজেলায় এবার দাখিল পরীক্ষায় মোট ৯৩৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬৯৭ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ২৩১ জন। উপজেলায় দাখিলে মোট পাসের হার ৭৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। দাখিল পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ৯৪ দশমিক ১২ শতাংশ পাসের হার অর্জন করেছে গোপালপুর দাখিল মাদ্রাসা। এ ধারায় মোট ২৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে গোপালপুর দাখিল মাদ্রাসা ও দৌলতগঞ্জ গাজীমুড়া কামিল মাদ্রাসা থেকে সর্বোচ্চ পাঁচজন করে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
ভোকেশনালে পাসের হার ৮৬.৬৪ শতাংশ, ভোকেশনাল পরীক্ষায় লাকসাম উপজেলায় মোট ২৭৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৪০ জন উত্তীর্ণ এবং ৩৫ জন অকৃতকার্য হয়েছে। উপজেলায় পাসের হার ৮৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ভোকেশনাল শিক্ষায় সর্বোচ্চ ৯০ দশমিক ৭৪ শতাংশ পাসের হার অর্জন করেছে আল আমিন ইনস্টিটিউট। এ ধারায় মোট দুইজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাদের মধ্যে আল আমিন ইনস্টিটিউট ও লাকসাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন করে শিক্ষার্থী রয়েছে। ধারাবাহিক সাফল্যে এগিয়ে এন, এফ এন্ড বি, এন হাইস্কুল।
লাকসাম উপজেলার শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের ফলাফলে সাধারণ শিক্ষা, দাখিল ও ভোকেশনাল—তিন ধারাতেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভালো ফলাফল করেছে। তবে এসএসসিতে পাসের হার ও জিপিএ-৫—উভয় ক্ষেত্রেই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে নবাব ফয়েজুন্নেছা ও বদরুন্নেসা যুক্ত উচ্চ বিদ্যালয়। সোমবার (১০ আগস্ট) ফলাফল প্রকাশের পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দেখা যায় আনন্দ-উচ্ছ্বাস। ঢোলের তালে নেচে-গেয়ে এবং পরস্পরকে অভিনন্দন জানিয়ে সাফল্য উদযাপন করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
অভিভাবক গোলাম ফারুক বলেন, “এই বিদ্যালয়ের পাঠদান পদ্ধতিই শিক্ষার্থীদের এগিয়ে দিয়েছে। এখানে সন্তানকে পড়াশোনা করিয়ে অনেকটা নিশ্চিন্তে থাকা যায়।” সাফল্য অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা জানায়, শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদান, দিকনির্দেশনা ও আন্তরিক সহযোগিতার পাশাপাশি অভিভাবকদের গাইডলাইন তাদের ভালো ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহ আলম বলেন, “আমাদের সাফল্যে অনেকে হিংসা করেন। এটা উচিত নয়। পরিশ্রম করলে অবশ্যই তার ফল পাওয়া যাবে।” শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এ সাফল্য এসেছে বলে জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামাল হোসেন বলেন, “এই অর্জন আমার সহকর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও লাগাতার পরিশ্রমের ফল। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করেছেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সহযোগিতাও আমাদের এ সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা, নিয়মিত পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই এ ভালো ফলাফল এসেছে। ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দক্ষিণ কুমিল্লার অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে।
মন্তব্য করুন