সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল ব্র্যান্ডের মোড়কে বাজারজাতের অভিযোগ, সিলগালা গুদাম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল আত্মসাৎ করে নামিদামি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোড়কে বাজারজাত করার অভিযোগে ভয়াবহ অনিয়মের সন্ধান পেয়েছে প্রশাসন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত যৌথ অভিযানে প্রায় ৫৭৮ টন সরকারি চাল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে সীতাকুণ্ড উপজেলার পরিত্যক্ত সালেহ কার্পেট মিলের একটি বিশাল গুদামে অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন, র্যাব ও খাদ্য বিভাগ। বহু বছর ধরে বন্ধ থাকা এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গুদাম সরকারি চাল মজুদ ও পুনরায় প্যাকেটজাত করার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
অভিযান চলাকালে গুদামের ভেতরে সারিবদ্ধভাবে রাখা হাজার হাজার বস্তা চাল দেখতে পান কর্মকর্তারা। অনেক বস্তায় সরকারি খাদ্য কর্মসূচির চিহ্ন থাকলেও বিপুল পরিমাণ চাল বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়কে ভরা অবস্থায় পাওয়া যায়। এতে ধারণা করা হচ্ছে, সরকারি খাদ্য সহায়তার জন্য বরাদ্দ চাল অসাধু ডিলার ও চোরাকারবারিদের মাধ্যমে গোপনে সংগ্রহ করে বাজারজাত করা হচ্ছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় বিতরণের জন্য নির্ধারিত চাল গোপনে এই গুদামে এনে মজুদ করা হতো। পরে শ্রমিকদের দিয়ে সেগুলো বিভিন্ন কোম্পানির বস্তায় ভরে পাইকারি ও খুচরা বাজারে বিক্রি করা হতো। অভিযানে উপস্থিত চট্টগ্রাম জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেন বলেন, “সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল সাধারণ মানুষের অধিকার। অথচ একটি অসাধু চক্র সেই চাল আত্মসাৎ করে ভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে বাজারজাত করছে। এটি শুধু অর্থনৈতিক অপরাধ নয়, সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও আঘাত। তিনি আরও জানান, গুদাম মালিকের সরকারি চাল সংরক্ষণ বা বাজারজাত করার কোনো বৈধ লাইসেন্স পাওয়া যায়নি। তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তদন্তের মাধ্যমে সরকারি খাদ্যগুদাম, ডিলার ও পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে।
র্যাবের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার তাওহীদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে একটি গুদামের সন্ধান পাওয়া গেছে যেখানে বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল মজুদ ছিল। এ চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন র্যাব এসপি সাইফুর রহমান, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা রাজিব কুমার দে-সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অভিযান শেষে পুরো গুদাম সিলগালা করা হয়েছে এবং জব্দকৃত চাল সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল নিয়ে এমন অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।
মন্তব্য করুন