হিঙ্গুরী পাড়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে মদ ও গাঁজা উদ্ধার, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ; অভিযানের সময় কৌশলে পালালেন মন্জুরা বেগম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার হিঙ্গুরী পাড়ায় মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে স্থানীয়দের উদ্যোগে পরিচালিত এক যৌথ মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ মদ ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকা নুরুজ্জামা ও তার স্ত্রী মন্জুরা বেগমকে হাতেনাতে ধরার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত মন্জুরা বেগম কৌশলে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও অভিযানে অংশগ্রহণকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে হিঙ্গুরী পাড়াসহ আশপাশের এলাকায় নুরুজ্জামা ও তার স্ত্রী মন্জুরা বেগম গোপনে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। বিশেষ করে যুবসমাজের একটি অংশকে টার্গেট করে মাদক সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের ভাষ্য, একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিলেও নানা কারণে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি।
তবে সম্প্রতি এলাকায় মাদকের বিস্তার এবং তরুণ সমাজের অবক্ষয় রোধে স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিবর্গ ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে হিঙ্গুরী পাড়া জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৪ মে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে নুরুজ্জামা ও মন্জুরা বেগমের নিজ বসতঘরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তাদের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে হাতেনাতে ধরার চেষ্টা করা হলে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মন্জুরা বেগম কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। তবে অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে মদ ও গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযানে অংশ নেওয়া কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, মাদক ব্যবসার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। অনেক তরুণ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় পরিবারগুলো উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। ফলে স্থানীয়ভাবে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সময়ের দাবি হয়ে উঠেছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হিঙ্গুরী পাড়ায় কিছু অসাধু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাদের মতে, প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ জোরদার না হলে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে হিঙ্গুরী পাড়া জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন–এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, হিঙ্গুরী পাড়াকে কোনোভাবেই মাদকের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে দেওয়া হবে না। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, “আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই—মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য এই এলাকায় কোনো জায়গা নেই। যারা যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও আইনগত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। হিঙ্গুরী পাড়াকে মাদকমুক্ত করতে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে। এদিকে, অভিযানের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং মাদক নির্মূলে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নুরুজ্জামা ও পলাতক মন্জুরা বেগমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
মন্তব্য করুন