শিশু রামিসা হত্যার বিচারের দাবিতে সাভার উপজেলার সামনে বিশাল মানববন্ধন, দ্রুত বিচারের আওতায় এনে ফাঁসির দাবি।
ঢাকার পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণীর অবুজ শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং দেশব্যাপী শিশু-নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে এবার উত্তাল হয়ে উঠেছে সাভার। ঢাকার প্রবেশদ্বার খ্যাত এই শিল্পাঞ্চলের রাস্তায় নেমে এসেছে হাজারো বিক্ষুব্ধ মানুষ।

আজ শনিবার (২৩ মে) বিকেল ৪টায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ব্যস্ততম সাভার গেন্ডা সাভার উপজেলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যেন এক অভূতপূর্ব প্রতিবাদের ঢল নামে। ‘সাভার নাগরিক কমিটি’ এবং ম্যান ফর ম্যান সংগঠন সামাজিক পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার যৌথ ব্যানারে এই বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভের তীব্রতায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গেন্ডা এলাকা দীর্ঘ সময় থমকে দাঁড়ায়। সাভার উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি, স্থানীয় কর্মরত সাংবাদিক, আইনজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে রাজপথে এসে যোগ দেন। বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে থাকা ফেস্টুনগুলোতে জ্বলজ্বল করছিল—রাষ্ট্র তুমি সজাগ হও’, ‘We want Justice ৭ দিনে নৃশংসভাবে ৪ জন শিশুহত্যা, আমরা বিচার চাই’। সাভারের বাতাস তখন একটাই দাবিতে মুখরিত রামিসা হত্যার বিচার চাই! গত ২০ মে মিরপুরের পল্লবীতে নিষ্পাপ শিশু রামিসাকে যেভাবে বিকৃত পন্থায় ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে, তা পুরো মানবতাকে লজ্জিত করেছে। সাভারের সচেতন নাগরিক সমাজ এই বর্বরতাকে মুখ বুজে সহ্য করবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার পরও কেন ইদানীং শিশু ও নারী নির্যাতন বাড়ছে? এই স্বাধীন দেশে আমাদের সন্তানেরা কি তবে নিরাপদ নয়? কর্মসূচি চলাকালীন স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের সর্বোচ্চ মহলে পাঠানোর জন্য ৪ দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়। খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার: শিশু রামিসার ধর্ষণ ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল হোতাসহ সকল আসামিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিতে হবে। এবং দ্রুত সময় ট্রাইব্যুনালে ফাঁসি: বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে আগামী ১ মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে এবং অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো শিশু বা নারী এমন নৃশংসতার শিকার না হয়, সেজন্য সাভারের আনাচে-কানাচে ও দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর ও দৃশ্যমান অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। আইনী সংস্কার: দেশব্যাপী হত্যা-ধর্ষণ ও নির্যাতন বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনী সংস্কার করে দ্রুততম সময়ে তা কার্যকর করতে হবে।মানববন্ধন ও বিক্ষোভের সমাপনী পর্বে সাভার উপজেলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। সমাবেশ থেকে সাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, যদি এই নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে জঘন্য অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দৃশ্যমান না হয়, তবে ঢাকার এই প্রবেশদ্বার সাভার থেকেই আগামীতে আরও কঠোর ও দেশব্যাপী স্তব্ধ করে দেওয়ার মতো বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন