কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মদ ও ইয়াবা উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। এ সময় তিনজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। রবিবার (১৭ মে) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন। তিনি জানান, দেশের উপকূলীয় ও সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক, চোরাচালান এবং অন্যান্য অপরাধ দমনে কোস্ট গার্ড নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে। এরই অংশ হিসেবে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৬ মে) রাত ১১টার দিকে টেকনাফ থানাধীন কেরুণতলী এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। এ সময় একটি সন্দেহভাজন সিএনজি তল্লাশি করে প্রায় ২৪ হাজার টাকা মূল্যের ৪৭ ক্যান বিদেশি বিয়ার উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি পাচারকাজে ব্যবহৃত সিএনজিসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ ছলিম উল্লাহ (৩০)। তিনি টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শিলখালী চৌকিদারপাড়া এলাকার নূর আহম্মদের ছেলে।
অপরদিকে, রবিবার (১৭ মে) সকাল ৮টা ও বিকাল ৪টার দিকে টেকনাফের হলবনিয়া ও মাথাভাঙ্গা এলাকায় কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট বাহারছড়া পৃথক দুইটি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে দুইটি সন্দেহভাজন ইজিবাইক তল্লাশি করে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল্যের ১২৭ লিটার বাংলা মদ উদ্ধার করা হয়। এ সময় পাচারকাজে ব্যবহৃত ইজিবাইকসহ আরও দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। আটক অপর ব্যক্তিদের মধ্যে একজন হলেন হাফেজ আহম্মদ (৩০), পিতা নূর মোহাম্মদ, সাং- দক্ষিণ শিলখালী চৌকিদারপাড়া, ৪নং ওয়ার্ড, বাহারছড়া ইউনিয়ন, টেকনাফ। অপর আটক ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এছাড়াও, একইদিন দুপুর ১টার দিকে সাবরাং নয়াপাড়া সংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট শাহপরী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আরেকটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় একটি সন্দেহভাজন ডিঙি নৌকা তল্লাশি করে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের ১৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা ঝাউবনের দিকে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দকৃত আলামত, পাচারকাজে ব্যবহৃত যানবাহন এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, “দেশে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।”
মন্তব্য করুন