ইলিয়াছ হোসাইন, রিপোর্টার কুমিল্লা
কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের ধান সম্পর্কে ধারণা দেওয়া, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি তুলে ধরা এবং ভালো ফলনের লক্ষ্যে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ১ নম্বর বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের বাঙ্গড্ডা উত্তরপাড়ায় হীরা ধান নিয়ে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এ সভায় স্থানীয় কৃষকদের সামনে সুপ্রিম সিড কোম্পানি লিমিটেডের হীরা-১৯ ও হীরা-২১ জাতের হাইব্রিড ধানের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়। সভায় কৃষকরা ধানের জাত, জীবনকাল, গাছের উচ্চতা, শীষের বৈশিষ্ট্য, রোগবালাই মোকাবিলা, পরিচর্যা এবং সম্ভাব্য ফলনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
সভায় হীরা-১৯ জাতের ধান সম্পর্কে কৃষকদের জানানো হয়, এ জাতের ধানের জীবনকাল প্রায় ১৪০ থেকে ১৪৫ দিন। এ ধানের গাছ মাঝারি উঁচু এবং ব্যানারে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, ধান ঝরে পড়ার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম। পাশাপাশি শীষে চিটা কম থাকা এবং ঝড়-বাতাসে গাছ হেলে পড়ার প্রবণতা কম। কৃষকদের উদ্দেশে অফিসাররা বলেন, ভালো ফলনের জন্য শুধু উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করলেই হবে না; জমির ধরন অনুযায়ী সঠিক সময়ে বীজ বপন, সুষম সার প্রয়োগ, সঠিক সেচ এবং নিয়মিত পরিচর্যাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় হীরা-২১ জাতের ধানের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যও কৃষকদের সামনে তুলে ধরা হয়। ব্যানারে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ জাতের ধানের গাছের উচ্চতা প্রায় ১০০ থেকে ১০৫ সেন্টিমিটার এবং জীবনকাল প্রায় ১৪০ থেকে ১৪৫ দিন। এ জাতের ধানের দানা ও গুণগত বৈশিষ্ট্য নিয়েও কৃষকদের অবহিত করা হয়। একই সঙ্গে আমন/বোরো মৌসুমে স্থানীয় জমির পরিবেশ ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত জাত নির্বাচন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মতবিনিময় সভায় স্থানীয় কৃষকরা হীরা ধানের বীজ, চাষাবাদ পদ্ধতি, পরিচর্যা ও ফলন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কৃষকদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং ধান চাষের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কৃষি ব্যবস্থাপনা অনুসরণের পরামর্শ দেন। কৃষকদের উদ্দেশে হীরা ধানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মূলত উন্নত বীজের ব্যবহার, সঠিক পরিচর্যা এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেন। তাঁরা কৃষকদের জমির অবস্থা ও স্থানীয় পরিবেশ বিবেচনা করে বীজ নির্বাচন এবং কৃষি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় বাঙ্গড্ডা বাজারের হীরা ধানের ডিলার শরীফ উদ্দিন কৃষকদের কাছে উন্নত জাতের বীজের তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং চাষাবাদে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার বিষয়ে তিনি গুরুত্ব দেন। শরীফ উদ্দিনের পক্ষ থেকে কৃষকদের উদ্দেশে বলা হয়, বীজ কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই প্যাকেটের তথ্য, মেয়াদ ও অনুমোদনের বিষয়গুলো যাচাই করা উচিত। পাশাপাশি কৃষকরা যাতে সঠিক জাতের বীজ পান এবং চাষাবাদে প্রয়োজনীয় পরামর্শ পান, সে বিষয়ে সহযোগিতার কথা তুলে ধরা হয়। সভায় উপস্থিত কৃষকরা জানান, নতুন কোনো জাতের ধান চাষের আগে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জাতটির বৈশিষ্ট্য ও চাষাবাদ সম্পর্কে জানতে পারলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। এ ধরনের কৃষক সমাবেশ নিয়মিত আয়োজন করা হলে কৃষকদের মধ্যে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও উন্নত জাতের বীজ সম্পর্কে সচেতনতা আরও বাড়বে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
আয়োজকদের মতে, দেশের কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের কাছে মানসম্মত বীজ, সঠিক কৃষি তথ্য ও আধুনিক চাষাবাদ প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া জরুরি। বাঙ্গড্ডা উত্তরপাড়ার এ মতবিনিময় সভার মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে হীরা-১৯ ও হীরা-২১ জাতের ধান সম্পর্কে আগ্রহ ও সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে।
তবে কৃষকদের উদ্দেশে সংশ্লিষ্টরা আবারও গুরুত্ব দেন—উন্নত জাতের বীজের পাশাপাশি সঠিক সময়ে চাষ, জমির উপযোগী ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুসরণ করলেই কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন নিশ্চিত করার সম্ভাবনা বাড়ে।
মন্তব্য করুন