সুন্দরবনে কেওড়ার মৌসুম শেষের পথে। বেশির ভাগ গাছ থেকে ফল ঝরে গেলেও এখনো কিছু গাছে ফল ঝুলে আছে। সেই ফলের সন্ধানে এক গাছ থেকে আরেক গাছে ঘুরে বেড়াচ্ছে বানরের দল। ফল খেয়ে তাদের শরীরও এখন বেশ হৃষ্টপুষ্ট।
গত বৃহস্পতিবার সকালে কয়রা নদীর তীরের একটি কেওড়া বনে বানরদের এমন ব্যস্ততা দেখা গেছে। মানুষের উপস্থিতি টের পেতেই তারা ডালপালা পেরিয়ে গভীর বনে চলে যায়। জেলেদের ভাষ্য, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে এই ফল বেশি মেলে। তাঁরা কেওড়া দিয়ে ডাল রান্না করেন, আবার সেদ্ধ ফল বড়শিতে গেঁথে মাছও ধরেন।
বনের খাদ্যচক্রে কেওড়ার ভূমিকা বড়। বানর গাছ থেকে ফল ও পাতা ছিঁড়ে নিচে ফেললে হরিণ তা খায়। আবার বাঘের উপস্থিতি টের পেলে উঁচু ডাল থেকে ডেকে বানর হরিণদের সতর্ক করে। গত রোববার দুপুরে খোলপেটুয়া নদীর তীরে কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রেও পর্যটকেরা বানরদের ছোটাছুটি দেখেছেন। আগে খাবারের আশায় বানর পর্যটকদের কাছে ছুটে আসত, এখন কেওড়া খেয়ে পেট ভরায় সেই আগ্রহ কমেছে।
বনকর্মীদের মতে, সুন্দরবনের বানরের অন্যতম প্রধান খাবার কেওড়া; হরিণ ও নানা পাখিও এই ফল খায়। আইইউসিএনের ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের জরিপ অনুযায়ী সুন্দরবনে বানরের সংখ্যা ১ লাখ ৫২ হাজার ৪৪৪, যা ২০০৪ সালে ছিল ৫১ হাজার।
সূত্র: প্রথম আলো
মন্তব্য করুন