জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া, সরকারি ব্যয় কমানোর নীতি এবং তরুণদের দাবি উপেক্ষিত হওয়ার প্রতিবাদে শনিবার রাতে ইউরোপের একাধিক দেশের রাজপথে নেমেছেন তরুণ বিক্ষোভকারীরা। হ্যালোইন উদযাপনের মধ্যেই ফ্রান্স, জার্মানি ও পোল্যান্ডে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, আর ইতালিতেও হাজারো মানুষ রাস্তায় নামেন।
ফ্রান্সে রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে দিনভর মিছিল মোটামুটি শান্তিপূর্ণ থাকলেও সন্ধ্যার দিকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। লিওঁ ও তুলুজে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে, মার্সেইতেও উত্তেজনা দেখা দেয়। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন শহর থেকে মোট ৫৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সারা দেশে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ এদিনের বিক্ষোভে অংশ নেন।
জার্মানিতে বার্লিন, কোলন, হামবুর্গ ও ফ্রাঙ্কফুর্টসহ বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। ফ্রাঙ্কফুর্টে মুখোশধারী একদল বিক্ষোভকারী দোকানে লুটপাট চালায় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, আতশবাজি ও পেট্রলবোমা ছোড়ে বলে পুলিশ জানিয়েছে। জবাবে পুলিশ জলকামান ও পিপার স্প্রে ব্যবহার করে। জার্মানিজুড়ে ১০ হাজারের বেশি তরুণ এ বিক্ষোভে অংশ নেন বলে জানা গেছে।
পোল্যান্ডে সাংবিধানিক ট্রাইব্যুনালের প্রধানকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে টানা দ্বিতীয় রাতেও শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেন। শুক্রবার রাতে তিন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। এদিকে ইতালিতে মজুরি বাড়ানো, সরকারি সেবা জোরদার করা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে হাজারো শিক্ষার্থী ও শ্রমিক বিক্ষোভ করেছেন; তাঁরা সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোরও প্রতিবাদ জানান।
সূত্র: প্রথম আলো
মন্তব্য করুন